শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গ্যারেজে জরাজীর্ণ অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি

রওনক ইসলাম   |   সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ২১৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গ্যারেজে জরাজীর্ণ অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এরমধ্যে ২টি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ বছর ধরে ঝরাঝির্ন হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় অকেজো হয়ে খোলা আকাশের নিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে আছে।

সেইসাথে ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া আরেকটি গ্যারেজ বন্দী হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে কোনো রকমে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থার ফলে মুমূর্ষু রোগীদের জেলা শহর বা উন্নত কোনো হাসপাতালে পাঠানো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স সংকট থাকার ফলে রোগীর স্বজনদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর হওয়ায় তাদের মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে দীর্ঘ বছর আগে পর্যায়ক্রমে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক একটি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। এটির মধ্যে লাইফ সাপোর্টসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ বছর ধরে অকেজো হয়ে খোলা আকাশের নিচে ঝরাঝির্ন অবস্থা পড়ে আছে ২টি অ্যাম্বুলেন্স। সেইসাথে ভারত থেকে উপহার পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি নানান সমস্যার কারণে বর্তমানে গ্যারেজে বন্দী হয়ে সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

সুত্র জানায়, এ উপজেলা রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ১টি পৌরসভা ৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। যেখানে প্রায় দেড় লাখের উপর মানুষের বসবাস। যার আয়তন রয়েছে প্রায় ১০২.১১ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলার ৩১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার প্রায় ২ লাখের উপর মানুষ চিকিৎসক সেবা নিয়ে আসছে। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে উপজেলাবাসীর কথা বিবেচনায় এনে সরকার ২০১৮ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিত্যক্ত অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে ঝরাঝির্ন হয়ে দুটি অ্যাম্বুলেন্স পড়ে আছে। যার চাকাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ একেবারে নষ্ট হয়ে আছে। চুরি হয়ে গেছে কিছু মূল্যবান যন্ত্রাংশও। খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় অ্যাম্বুলেন্স দুটি পুরোপুরি জরাজীর্ণ অবস্থায় হয়ে আছে। পাশাপাশি গ্যারেজে পড়ে আছে ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া লাইফ সাপোর্টসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স। যান্ত্রিকত্রæটিসহ নানা সমস্যার কারণে এটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় এটি রোগী পরিবহনের কোন কাজে আসছে না। ফলে এখন এটি একেবারে গ্যারেজবন্দি হয়ে আছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে ভারত থেকে পাওয়া এই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকায় রোগী নিয়ে যেতে সময় লেগে যায় ৭ ঘণ্টা, যেখানে সাধারণ একটি অ্যাম্বুলেন্সে আখাউড়া থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এ অবস্থায় রোগীর স্বজনরা পড়ে যান অস্বস্তিতে। সময় লাগার কারণ হিসেবে চালকরা জানান, অন্যান্য অ্যাম্বুলেন্স থেকে এর লোড অনেক বেশি।

ফলে সড়কে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এছাড়া একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনা করা কঠিন। কারণ এটি অন্যান্য অ্যাম্বুলেন্স থেকে ভিন্ন। এর সঙ্গে সব সময় একজন চিকিৎসক থাকতে হয়। কিন্তু সে সময় এসব অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কোনো চালক ও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ দেওয়া হয়নি জ্বালানি তেল। এসব সমস্যার কারণে গত তিন বছরে আর কোনো রোগী পরিবহন করা হয়নি অ্যাম্বুলেন্সগুলো দিয়ে। গ্যারেজে পড়ে থেকে বর্তমানে এর ইঞ্জিন ও ব্যাটারি নষ্ট হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্য অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় এগুলোর ইঞ্জিন ভারী ও বডি হালকা হওয়ায় চালকরা সড়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ফলে গন্তব্যে যেতে সময় লাগে বেশি। এছাড়া এতে এনআইসিইউর নামে যে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে তা নামমাত্র। এখন মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্সই ভরসা। একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই রোগী পরিবহন করা হচ্ছে।

মো: আনিস মিয়া বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো মুমূর্ষু রোগীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল অথবা অন্য কোথাও যেতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি পুরাতন অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। সময় অনুযায়ী না পাওয়ায় এজন্য ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ছেন দরিদ্র রোগীদের স্বজনরা। কারণ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া অনেক বেশি হয়। তখন তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে থাকা অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলে সব সময় সেবা দেওয়া যাবে।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের স্বাস্থ্য ও পবিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন, এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চারটি অ্যাম্বুলেন্স আছে। এর মধ্যে অনেক বছর আগেই ২টি নষ্ট হয়ে খোলা আকাশের নিচে ঝরাঝির্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নানা সমস্যার কারণে ভারতীয় উপহার দেওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ৩ বছর ধরে গ্যারেজে বন্দী হয়ে আছে। বর্তমানে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স এখনো সচল আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো আছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Akhaurar Alo 24-এর খবর

সম্পাদক
মোঃ সাইফুল ইসলাম
যোগাযোগ