শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কে খুন করে পুতে ঢালাই করল প্রতিবেশী টুটুল

আশরাফুল মামুন মালয়েশিয়া থেকে#   |   শনিবার, ২১ আগস্ট ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ৬২১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কে খুন করে পুতে ঢালাই করল প্রতিবেশী টুটুল

মালয়েশিয়ায় নিজ গ্রামের প্রতিবেশী যুবক মোশাররফ হোসেন(২৮) কে কুপিয়ে খুন করে তাদের নিজ ঘরের রুমের টয়লেটে পুতে ঢালাই করে রাখলো তারই প্রতিবেশী যুবক মোঃ টুটুল মিয়া (২৫)।

তাকে খুন করা হয় গত জুলাইয়ের ১২ তারিখ রাত ১ টায় সেরেমবান এলাকায় পরে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয় ২২ জুলাই। টুটুল মিয়া মোশারফ কে নির্মমভাবে খুন করার দায়ে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়ার জেলে বন্দী আছে।

খুন হওয়া মোশাররফ হোসেন ও খুনী টুটুল মিয়া এই দুজনের বাড়ী একই এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানার মরিচাকান্দী ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে।গতকাল শুক্রবার দিনগত রাত ১১ টার ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর থেকে মোশাররফ হোসেন এর মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে আজ ভোররাতে।

শনিবার (২১ আগষ্ট) সকাল ভোরে পরিবারের সদস্যরা লাশ বিমান বন্দর থেকে রিসিভ করে তারপর শান্তিপুর গ্রামের বাড়িতে সকাল ১০ টায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মোশাররফ এর প্রতিবেশী স্থানীয় কমিউনিটির নেতা মোঃ শামীম আহমেদ।

এসময় শান্তিপুর পুরো গ্রামটি শোক ও আহাজারিতে ক্ষনিকের জন্য অশান্ত হয়ে যায়।মোশাররফ এর লাশ দেশে ফেরত আনতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অনুরোধ করেন মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুরে থাকা কমিউনিটির নেতা জহিরুল ইসলাম জহির কে।

তখন জহিরুল ইসলাম নিহত মোশাররফ এর মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কোম্পানির মালিক, থানা পুলিশ, লাশ প্রেরণকারী এজেন্ট ও দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে যাবতীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে সহযোগিতা করেন। জহিরুল ইসলাম জহির প্রতিবেদক কে বলেন, আমি প্রাথমিক ভাবে যতটুকু তদন্ত করে জানতে পারলাম সেটা হলো প্রতিবেশীদের মাধ্যমে, মোশাররফ ও টুটুল এর বাড়ি একই গ্রাম শান্তি পুর গ্রামে। সেই সুবাদে তারা একসাথে কাজ করতো এবং একই রুমে বসবাস করতো।

গত জুলাই মাসের ১২ তারিখে তারা দূজনেই বেতন পায়। বেতন পেয়ে টুটুল মোশাররফ এর কাছে টাকা ধার চায় টাকা না দেওয়ায় দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। তারপর এই দিন রাত ১ টায় মোশাররফ কে খুন করে টয়লেটের মেঝে ৩ ফুট গর্ত করে লাশ পুতে তার উপর সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে রাখে।

এদিকে মোশাররফ এর মালিক কাজে অনুপস্থিত দেখে হন্যে হয়ে খুজছে কিন্তু মোশাররফ এর কোন হদিস নেই। টুটুল বলছে মোশাররফ অন্য কোথাও কাজে চলে গেছে। কিন্তু মোশাররফ এর কথাবার্তায় মালিকের সন্দেহ হয়। তখন মালিক ২ জন বাংলাদেশী কে পাঠায় মোশাররফ এর রুমে থাকার জন্য।পরে ১ সপ্তাহ পর ২২ জুলাই ঘরের মেঝ থেকে দূগন্ধ আসায় টুটু্ল কে ধরে জিজ্ঞাসা করে সে প্রথমে অস্বীকার করে। তখন তাকে মারধর করার পর টুটুল পুলিশের কাছে স্বীকার করে মোশাররফ কে সে খুন করে মাটিতে পুতে রেখেছে। মোশাররফ হোসেন এর স্ত্রী এক কন্যা সন্তান ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

মোশারফ হোসেন ২০১৩ সালে কলিং ভিসায় চাকুরী নিয়ে মালয়েশিয়া আসেন।পরবর্তীতে দালালের প্রতারনার কারনে তিনি আর বৈধ হতে পারেননি। মোশাররফ এর পরিবারের পক্ষ থেকে তার হত্যার বিচার ও পরিবার কে আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রধনামন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Akhaurar Alo 24-এর খবর

সম্পাদক
মোঃ সাইফুল ইসলাম
যোগাযোগ