মায়ের কোলে হাসছে সিফাত মোল্লা। অপহরণের দুইদিন পর আখাউড়া থানা পুলিশ নোয়াখালীর সুদারামের ধর্মপুর থেকে শিশু সিফাত (২০ মাস)কে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে।
অপহরণের প্রধান আসামী ফারুক মিয়া (৪০)সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে আখাউড়া থানার ওসি রসুল আহমদ নিজামী প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার দুপুরে আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রামের শিপন মোল্লার ছেলে সিফাতকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নোয়াখালীর সোনাপুরের ফারুক মিয়া ও তার স্ত্রী রুপা বেগম।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, নোয়াখালীর সোনাপুর গ্রামের ফারুক মিয়া তার স্ত্রী রুপা বেগম গত রোববার দুপুরে দেবগ্রাম থেকে সিফাতকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সোনাপুর থেকে সিফাতের বাবার কাছে মোবাইল ফোনে ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরের দিন সিফাতের বাবা শিপন মোল্লা থানায় অভিযোগ দেয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আখাউড়া থানার এসআই হাবিব নোয়াখালী গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে জেলার চরজব্বর উপজেলার থানারহাট বাজার থেকে বিকাশ নম্বর ব্যবহারকারী আনোয়ার হোসেন (২১) কে প্রথমে গ্রেফতার করে।
পরে এ মামলার প্রধান আসামী ফারুক মিয়াকে নোয়াখালীর সুদারাম উপজেলার ধর্মপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। আসামী ফারুরে হেফাজতে থাকা সিফাতকে অক্ষত অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করে। এ সময় অপর আসামী রুপা বেগম পালিয়ে যায়।
সিফাতের বাবা শিপন মোল্লা বলেন, আমরা যে বাড়িতে থাকি সেই বাড়িতে ৭/৮ মাস পূর্বে ফারুক মিয়া ও তার স্ত্রী ঘর ভাড়া নেয়। তাদের কোন সন্তান ছিল না। সিফাতকে তারা আদর করত। মজা খাওয়াত। তারা যে অপহরণকারী তা জানতাম না। মা লাকী বেগম বলেন, আমার বুকের ধন ফিরে পেয়েছি পুলিশের কারণে। এ জন্য আমি আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।
আখাউড়া থানার এসআই হাবিব খান বলেন, ওসি স্যারের নির্দেশে নোয়াখালী যায়। ওখানে যাওয়ার পর আসামীদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তারা একক সময় একক ঠিকানা দেয় দেখার করার জন্য। কিন্ত বারবার তারা স্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধরা যাচ্ছিল না। পরে ডিজিটাল প্রযুক্তি রেডিও লোকেশন ব্যবহার করে আসামীদের ধরা হয়। উদ্ধার করা সিফাতকে।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রসুল আহমদ নিজামী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় সিফাতকে উদ্ধার করে তার মা কোলে ফেরত দিতে পেরেছি।তিনি আরো জানান, শিশুটি অপহরণের পর থেকেই আমাদের অভিযান শুরু হয়। শিশুটি উদ্ধারে বেশ বেগ পেতে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে তুলে দিতে পেরে আমরা খুশি।