ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে নির্বাচনী হাওয়া ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। গতকাল এই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা ঘাটিয়ারা, ওজানিসারসহ বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ করেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশ তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন। কারণ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৫ আগস্টের পর নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন এবং ‘না ভোট’-এর পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার নীরবে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁঞাকে সমর্থন দিচ্ছেন।
এই ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচনে এখানে একটি ভালো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
তফসিল ঘোষণার পর অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা নিজ গ্রাম কোড্ডা, শ্যামনগর ও কোরাবাড়িতে বিশাল সমাবেশ করেন। এরপর তিনি চিনাইর, ভাতশালা, বাসুদেব, পাইকপাড়া, জালিলতলা ও বিজনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক গণসংযোগ চালান।
আমাদের প্রতিনিধি বিভিন্ন স্থানে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছেন, এই আসনে জাতীয় পার্টির একটি নীরব ভোটব্যাংক রয়েছে। পাশাপাশি অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা একজন বর্ষীয়ান ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।
আগের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট ও সমঝোতার মাধ্যমে অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে দল ভাঙন এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে একাধিক নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নিজস্ব প্রার্থী না থাকার কারণে এই আসনে তাদের সমর্থন কিছুটা কমে যায়।
এক সময় এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ভোট প্রায় সমান ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে নির্বাচন করায় পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। যদি এবার আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোট এক বাক্সে পড়ে, তাহলে সব হিসাব-নিকাশ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।এ কারণে এলাকাবাসীর দৃষ্টি এখন ১২ই ফেব্রুয়ারির দিকে—সেদিন কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।