শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারিভাবে ফল আসতে দেরি হওয়ায় বাড়ছে সংক্রমনের ঝুঁকি

  |   শনিবার, ২৭ জুন ২০২০   |   প্রিন্ট   |   ৫৭১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারিভাবে ফল আসতে দেরি হওয়ায় বাড়ছে সংক্রমনের ঝুঁকি
ব্রাহ্মনবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৃহস্পতিবার নাগাদ করোনা আক্রান্ত ৬৭৩ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১২১ জন। মারা গেছেন আটজন। আক্রান্ত বাকি ৫৪৪ জন এখনো আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সেলফ আইসোলেশনে ৪৯৬ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন ৪৮ জন।
এক বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, চিকিৎসায় শতভাগ সুস্থ হয়েছেন আক্রান্তরা। অন্যদিকে উপসর্গ লুকিয়ে রাখতে গিয়েই অনেকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় চারজন, আখাউড়ায় দুই, নবীনগর ও নাসিরনগরে যে একজন করে মারা গেছেন তাঁদের প্রত্যেকে তখন করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি-না জানা যায় নি। পরে ফলাফল এলে করোনা পজেটিভ আসে।
এদিকে সরকারিভাবে ফলাফল আসতে গড়ে ১০-১২ দিন লেগে যাচ্ছে। এমনকি কখনো নমুনা নেয়ার ১৪ দিন পার হলে ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। দেরিতে আসার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। উপসর্গ না থাকায় নমুনা দিয়ে অনেকেই বাইরে ঘুরাফেরা করছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফলাফল পজেটিভ আসছে বলে ঝুঁকি বাড়ছে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরকারিভাবে আসা ফলাফলে পজেটিভের হার শতকরা প্রায় দশ। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে স্থাপিত ল্যাবে করানোর পরীক্ষার হার প্রায় ৩০ শতাংশ। যদিও সম্প্রতি চালু হওয়া বেসরকারি ল্যাবে মাত্র ১৭১ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৫৯ জনের পজেটিভ আসে। অন্যদিকে সরকারি উদ্যোগে প্রায় ছয় হাজার ৭০০ নমুনা পরীক্ষা করানো হয়, যার মধ্যে ৬১৪ জনের পজেটিভ।
জেলায় বেসরকারিভাবে পিসিআর ল্যাব স্থাপন হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ওই কলেজটির চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদ সরকারি হাসপাতালে নিজ অর্থায়নে একটি পিসিআরসহ সংশ্লিষ্ট মেশিন দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত আবু সাঈদ খেলাঘরের প্রেসিডিয়ার মেম্বার ও জেলার সভাপতি।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি, বৃহস্পতিবার নাগাদ জেলার আট হাজার ৭৯৭ জনের নমুনা নেয়া হয়। এর মধ্যে ছয় হাজার ৯৬১ জনের ফলাফল আসে। সবচেয়ে বেশি ২১২ জন আক্রান্ত জেলা সদরে। এছাড়া কসবায় ১৩২ জন, নবীনগরে ১১০ জন, বাঞ্ছারামপুরে ৫৬ জন, সরাইলে ৪৭ জন, আখাউড়ায় ৩৮ জন, নাসিরনগরে ২৯ জন, আশুগঞ্জে ও বিজয়নগরে ২০ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সদরে চারজন, আখাউড়ায় দুইজন, নবীনগরে একজন ও নাসিরনগরে একজন মারা গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ শুক্রবার দুপুরে বলেন, ‘আইসোলেশন সেন্টার ও বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন কেউ এখন পর্যন্ত মারা যায় নি। আমরা নির্দেশনা মোতাবেক সব ধরণের সেবা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি বলে সবাই সুস্থ হচ্ছেন। তবে যে আটজন মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ও পরে ফলাফল পজেটিভ আসে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারিতে কোনো ‘ফি’ নেই বলে এমনিতেই অনেকে পরীক্ষা করাতে আসেন। যে কারণে বেশিরভাগ নেগেটিভ আসে। অন্যদিকে বেসরকারিতে করাতে সাড়ে তিন হাজার টাকা লাগে বলে উপসর্গওয়ালাই নমুনা দেন বলে বেশি পজেটিভ আসছে। তবে একটি একটি গবেষণার বিষয়। আমি শুধু সাধারন ধাণা থেকে বললাম।’ নিজেকে সুস্থ রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও উপসর্গ দেখা দিলে লোকুচুরি না করতে তিনি পরামর্শ দেন।
Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Akhaurar Alo 24-এর খবর

সম্পাদক
মোঃ সাইফুল ইসলাম
যোগাযোগ