শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার  ছাত্রকে যৌন নির্যাতন অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার ২

  |   বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১   |   প্রিন্ট   |   ৫৭৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার  ছাত্রকে যৌন নির্যাতন অধ্যক্ষসহ গ্রেফতার ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

লক্ষ্মীপুরে এক কওমি মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের পর পিটুনির ঘটনায় দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকার আত-তামরীন ইন্টারন্যাশনাল হিফযুল কুরআন মাদ্রাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (২ মার্চ) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মোহাম্মদ ইউসুফ ও যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ। আব্দুর রশিদ ভোলার বোরহান উদ্দিন থানার কাচিয়া ইউনিয়নের চকডোষ গ্রামের দক্ষিণ চকডোষ গ্রামের ক্বারী সিরাজুল হকের ছেলে। মাসুম বিল্লাহ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের ফেনুয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু আত-তামরীন ইন্টারন্যাশনাল হিফযুল কুরআন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। মাদ্রাসায় আবাসিকে থেকে সে পড়ালেখা করত। গত কয়েকদিন আগে শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ খাওয়ার রুমে ডেকে নিয়ে ওই শিশুকে যৌন নির্যাতন করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি মাদ্রাসা ৭ দিনের জন্য ছুটি দিলে শিশুটি অন্যদের মতো বাড়িতে যায়। পরবর্তীতে মাদ্রাসা খোলা হলেও শিশুটি বাড়ি থেকে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু মাদ্রাসায় যেতে মা তাকে বাধ্য করে। এ সময় শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা মাকে জানায়।

২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিশুর মা ও আত্মীয়-স্বজন মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে ঘটনাটি জানায়। ঘটনাটি তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ পরবর্তীতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে এজন্য অনুরোধ জানায়।

এদিকে, অধ্যক্ষ ওই ঘটনার কোনো তদন্ত না করেই ঘটনা প্রকাশ করে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন করার অভিযোগে পরদিন শিশুটিকে বেদম প্রহার করে আটকে রাখে। সোমবার মুঠোফোনে খবর পেয়ে শিশুর মা ও আত্মীয়-স্বজন মাদ্রাসায় যায়। শিশুটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আব্দুর রশিদ ও মাসুম বিল্লাহকে আটক করে। পরে এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় দুই শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শিশুটির মা বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে শিক্ষকরা খুব খারাপ কাজ করেছে। আমি অধ্যক্ষের কাছে বিচার চেয়েছি। কিন্তু তিনি আমার ছেলেকে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, শিশুর মায়ের দায়ের করা মামলায় আটক দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Akhaurar Alo 24-এর খবর

সম্পাদক
মোঃ সাইফুল ইসলাম
যোগাযোগ