| রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট | পড়ুন মিনিটে
মো:সাইফুল ইসলাম
করোনাভাইরাস আতঙ্কে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া অন্ধ পল্লীর বাসিন্দারা।
উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধনগর গ্রামের অন্ধ পল্লীতে ৪০টি পরিবার বসবাস করছে। ছেলে-বুড়ো, শিশু ও মহিলা নিয়ে অন্তত শতাধিক সদস্যর বসবাস এই অন্ধ পল্লীতে।
ট্রেন চলাচল বন্ধ, তাই অন্ধদের রেলষ্টেশন যাওয়াও বন্ধ। গ্রামে গেলে মানুষ ভিক্ষা না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ক’দিন ধরে বউ পোলা-মাইয়্যা নিয়া খেয়ে না খেয়ে ঘরে শুয়ে-বসে সময় পার করছি। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করলেও কেউ খাবার দিয়া সহযোগিতা করেনা।
আর যদি কিছুদিন এমনিতে থাকি তাইলে ভাইরাসে মরতে অইব না আমরা উপোষেই মইরা যামু -এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আখাউড়া উপজেলা অন্ধ কল্যান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মুকবুল মিয়া (৬০)।
অন্ধ পল্লীর সদস্যরা বলেন, অন্ধ পল্লীর ৪০টি পরিবারের অন্তত শতাধিক অন্ধ ভিক্ষুক আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ষ্টেশনে ট্রেনযাত্রীদের কাছে হাত পেতে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে ঘরের বাইরে যাওয়া বন্ধ।ঘরে যা মুজুদ ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। বাঁচার জন্য বাচ্চা-কাচ্চার মুখে খাবার তুলে দিতে ভিক্ষা করতে গ্রামে গেলেও ভাইরাস সংক্রামণের ভয়ে কেউ ভিক্ষা দেয়না। ঘরে খাবারের কিছু না থাকায় রান্নাও বন্ধ অনেক পরিবারের।
এদিকে অন্ধ পল্লীর কালোর স্ত্রী ভিক্ষা করার পাশাপাশি গ্রামের এক বাড়িতে ঝি’র কাজ করতেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে ওই বাড়ি যেতে তাকে নিষেধ করা হয়। ঘরে চাল-ডাল যা ছিল এ ক’দিনে ফুরিয়ে গেছে। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারে রান্নাও বন্ধ। দু’দিন আগে কালো তার স্ত্রীর কাছে খাবার চেয়ে না পাওয়ায় স্ত্রীকে মারধর করে। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারায় অন্যদের সহযোগিতায় স্বামীকে ঘরে শিকলবন্দি করে রাখেন স্ত্রী লাভলী।
লাভলীর মতো অন্ধ পল্লীর অন্যরাও জানান, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের সবার। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের ভিত্তবানরাও এগিয়ে আসেনা। চরম বিপাকে পড়েছেন অন্ধ পল্লীর বাসিন্দারা। এখন তাদের একটিই কথা ‘ আর কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে ভাইরাস লাগবে না, এমনিতেই আমাদের না খেয়ে মরতে অইব’।
আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হান্নান ভূইয়া স্বপন বলেন, সুবিধাবঞ্চিতদেও জন্য একটি তালিকা করেছি। খুব দ্রুতই তাদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।