| সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট | পড়ুন মিনিটে
বিশেষ প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে গলা রশিতে ফাঁস দেওয়া লুবনা আক্তার(১৮) এক তরুণীকে হত্যা করে লাশ অন্যবাড়িতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে জেলা শহরের মধ্যপাড়ার বসাকপাড়া মহল্লার অরবিন্দ করের বাসা থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত লুবনা শহরের কাজীপাড়া দরগাপাড়া মহল্লার মুসলিম মিয়া মেয়ে।
এ ঘটনায় রানা কর (৩০) নামে এক যুবক আটক করেছে পুলিশ। রানা শহরের মধ্যপাড়ার বসাকপাড়া মহল্লার নির্মল করের ছেলে। রানা শহরের একটি ফার্মেসী দোকানে কাজ করে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিনগত রাত প্রায় চারটার দিকে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি টহল দল মধ্যপাড়ার বসাকপাড়া মহল্লায় যান। মধ্যপাড়ার বসাকপাড়ার মহল্লার অরবিন্দ করের বাড়ির উঠনে গলায় রশি বাধাঁ অবস্থায় লুবনা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। সকাল থেকে স্থানীয় মাধ্যমে জানতে পেরে সকাল নয়টার দিকে নিহতের পরিবারের লোকজন অরবিন্দ করের বাড়িতে গিয়ে লাশ সনাক্ত করে। এর আগেই পুলিশ রানার বাড়ির প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। বেলা ১০টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।
নিহতের মা রেনু আক্তার বলেন, রানা কর নামে এক যুবক গত রোববার রাত আনুমানিক ১২টার লুবনাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে শহরের মধ্যপাড়ার বসাকপাড়া মহল্লার রানার বাড়ির পেছনে এক মেয়ে লাশ পড়ে রয়েছে বলে জানতে পারি। তারা বলেন, রানার সঙ্গে মুঠোফোনে লুবনা প্রায় কথা বলত। পরিবারের লোকজন এতে বাঁধা দিলেও লুবনা তা শুনেনি। তাই রাতে রনি ডেকে নিয়ে গেলেও কেউ বাঁধা দেয়নি। আর কোথায় যাবে এসব বলেও যায়নি। তারা অভিযোগ করে বলেন, রানাই লুবনা হত্যা করে লাশ বাড়ির ছাদ থেকে পেছনে অন্যবাড়িতে ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, রোববার দিনগত রাত তিনটার দিকে একটি মেয়েকে কেউ মারধর করছে এমন শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে। সেসময় আমাকে মেরো না বলে একটি মেয়ের কন্ঠ শুনা গেছে।
অরবিন্দ কর বলেন, রাত তিনটার দিকে সামনের বাড়িতে একটি মেয়েকে কেউ মারছিলেন এমন শব্দ শুনতে পেয়েছি।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, এঘটনায় রানা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। রানার বাড়ির সীমানা সংলগ্ন পাশের বাড়ি থেকে নিহতে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।