নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা চোরাচালানে জড়িত বলে জানায় ৬০ বিজিবি। এ ঘটনায় আরও প্রায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
নিহতরা হল, উপজেলার ধজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোঃ মুরসালিন মিয়া (২০) ও একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৫৫)। নিহতদের লাশ ভারতের অভ্যন্তরে একটি হাসপাতালে রয়েছে। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সুলতানপুর ৬০ বিজিবি।
(৬০ বিজিবি) প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনের মতো চোরাকারবারী দল ভারতের প্রায় ২শ গজ অভ্যন্তওে প্রবেশ করে চোরাচালান পণ্য আনার জন্য। পরে মালামাল নিয়ে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ”র (৪৯ ব্যাটালিয়নের) টহলরত জোয়ানার বাধা দেয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের উপর চড়াও হয় এবং চোরাকারবারীরা হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে বিএসএফ চোরাকারবারীদের উপর র্ছরা গুলি ছোড়ে।
গুলিতে গুরুতর আহত হয় মুরছালিন ও নবীর হোসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে ভারতের অভ্যন্তরে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানখার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদরেকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহতরা ইতোপূর্বেও চোরাচালান মালামাল পরিবহনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলো বলে জানায় বিজিবি।
মুরছালিনের পিতা হেবজু মিয়া জানায়, শুক্রবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বিকেলে ফিরে বাড়িতে আসে মুরসালিন। আসার পর রাতে গ্রামেরই হিমু ও তোফাজ্জল ডেকে নিয়ে যায়। রাত পর্যন্ত বাড়ি ফিরে আসেনি। পরে রাত ১২টার দিকে গ্রামের মুরশিদ মিয়া ও সবুজ মিয়া এসে জানায় মুরছালিন ও মুধপুর গ্রামের নবীর হোসনেকে বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে গেছে। এখনো লাশ ভারতে আছে। এ খবর আসার পর থেকে নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। লাশ ফেরত আনার বিষয়ে দুই পরিবারের লোকজন স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। মুরছালিন গোপীনাথপুর আলহাজ¦ শাহআলম ডিগ্রী কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। হিমু ও তোফাজ্জল তাকে আর্থিক লোভ দেখিয়ে সীমান্তে নিয়ে যায় বলে জানায় তার পিতা।
অপরদিকে নবীর হোসেনের ভাগ্নে ইয়াছিন মিয়া বলেন, সোহেল মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ী মাল আনার কাজ করতো তার মামা নবীর হোসেন। শুক্রবার রাতেও মাল আনার জন্যই গিয়েছিলো সীমান্তে। রাতে বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে গেছে। দ্রুত লাশ ফেরত আনার দাবী তার দুই মেয়ে ও পরিবারের ।
সুলতানপুর ৬০ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শরীফুল ইসলাম জানান, নিহতরা চোরাকারবারীর সাথে জড়িত ছিলো। শুক্রবার রাতে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকালে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। তাদের লাশ ভারতের একটি হাসপাতালের মর্গে আছে। দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।