স্নেহা রাণী পাল বয়স (৯ বছর) আমোদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী বাবা শ্রীনিবাস চন্দ্র পাল তিনি পেশায় একজন মৃৎশিল্পী। বৈশাখ উৎসবকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পী বাবার তৈরি মাটির হাড়ি, পাতিল, পুতুল ও খেলনাগুলোতে স্নেহা রং করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মাটি পোড়ানো, শুকানো শেষে সেগুলো কে আকর্ষণীয় করে তুলতে মা-বাবাকে সহায়তা করছে সে। স্নেহা তার মৃৎশিল্পী বাবার সাথে হাত মিলিয়ে মাটির তৈরি পণ্যে রং তুলির আঁচড় দিচ্ছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে আখাউড়া উপজেলার শেষ এবং বিজয়নগর উপজেলার শুরু গ্রাম শিবনগরের পালবাড়িতে গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।
এ সময় স্নেহা জানান, বাবার কাজের সহযোগিতার জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি এই কাজ করছি। স্নেহার বাবা শ্রীনিবাস চন্দ্র পাল বলেন, বছরে এই একটা উৎসব ঘিরে তাঁদের অনেক আশা থাকে। এমনিতে সারা বছর মৃৎশিল্পের তেমন চাহিদা থাকে না। নববর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলায় কেবল চাহিদা থাকে। তাই সারা বছর উৎসবটার অপেক্ষা করেন তাঁরা। আর তার কাজের সহযোগিতা করতে মেয়ে স্নেহা এগুলোতে রং করে দিচ্ছেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই যথাযথ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেন, তাহলে একসময় মৃৎশিল্পের বিলুপ্তি ঘটবে।
বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনবদ্য রূপ মৃৎশিল্প। এর সঙ্গে একদিকে জড়িয়ে আছে জীবনের প্রয়োজন আর অন্যদিকে নান্দনিকতা ও চিত্রকলার বহিঃপ্রকাশ। যে কারণে এই শিল্প বাঙালির নিজস্ব শিল্প, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অংশ।