নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১০ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই বাংলাদেশীর লাশ ফেরত দিলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
শনিবার (৯ মে) বিকেল ছয়টার দিকে ঘটনার প্রায় ১৮ ঘন্টা পর গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ২০৩৬ পিলার সংলগ্ন এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার (সিও) পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতদের লাশ হস্তান্তর করেন।
হস্তান্তরকালে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ( বিজিবি) সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ শরীফুল ইসলাম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৪৯ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল অজিত কুমার সিংহ।
এসময় কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ নাজনীন সুলতানা, ওসি পরিদর্শক রিপন দাসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চন্ডিদ্বার বিওপি র বিজিবি সদস্যগন ও বিএসএফের সদস্যগনসহ বিশালঘর থানার পুলিশের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। এসময় আশপাশে স্থানীয় উৎসুক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
নিহতরা হলেন- উপজেলার ধজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে তারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্ত এলাকার শুন্য রেখায় প্রায় ১৫ জন লোক অবস্থানকালে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন ও নবীর হোসেনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুইজনের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানায়।
এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে ভারতীয় ৪৯ ব্যাটালিয়নের টহলরত বিএসএফের বাধার মুখে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে। বিজিবি জানায়, এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।